গায়ে ইজিবাইকের ঘষা লাগায় চালককে মারধর পরে মৃত্যু,মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নে ইজিবাইকের এক চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির এক ছেলের গায়ে ইজিবাইকের ঘষা লাগলে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরে গুরুতর অবস্থায় চালক সোহেল মিয়াকে (১৭) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহত সোহেল সরিষা ইউনিয়নের গুইলাকান্দা গ্রামের আবু সাইদের ছেলে। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের গুইলাকান্দা কৃষিবাজারের একটি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

গায়ে ইজিবাইকের ঘষা লাগায় চালককে মারধর পরে মৃত্যু
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, চালক সোহেল মিয়া তাঁর ইজিবাইকে দুজন যাত্রী উঠিয়ে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে গুইলাকান্দা কৃষিবাজারে যাচ্ছিল। এ সময় সড়কের মাঝবরাবর দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবুল হাসেমের ছেলে ময়নাল মিয়া (২১)। সোহেল সড়কের ওই স্থান পার হওয়ার সময় ইজিবাইকটি ময়নালের গায়ে সামান্য ঘষা লাগে। এতে ময়নাল ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেলকে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে কিলঘুষি মারতে থাকেন। সোহেল ক্ষমা চেয়েও পাড় পায়নি।
একপর্যায়ে তার চুলের মুঠি ধরে তুলে কান বরাবর থাপ্পড় মারেন। এতে সোহেল লুটিয়ে পড়লে পথচারীরা তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক সোহেলকে মৃত ঘোষণা করেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে চারজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, আবুল হাসেম ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাঁর ছেলেরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। মানুষকে মারধর করা তাঁদের নিত্যদিনের কাজ।

গত শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে সরিষা গ্রামের হুমায়ুন কবীরকে (৩০) মারধর করেন হাসেমের বড় ছেলে মো. মোজাম্মেল। পরে ওই ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন করে প্রাণে রক্ষা পান। এ ঘটনায় হুমায়ুন বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ লিখিত অভিযোগ দিলে গতকাল শনিবার পুলিশ এসে তদন্ত করে, কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় হুমায়ুন আবার মারধরের আশঙ্কা করছেন।
ইজিবাইকচালকের নিহতের ঘটনার পর ইউপি সদস্য আবুল হাসেমের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। আবুল হাসেম, ময়নাল ও মোজাম্মেলের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাঁদের কল করলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। আশপাশের পড়শিরা জানান, মারধরে ইজিবাইকচালকের মৃত্যু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ময়নাল, তাঁর বাবা ও ভাই গা ঢাকা দিয়েছেন।

জেলার গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. সুমন মিয়া মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, নিহত কিশোরের সুরতহাল সম্পন্ন করার পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহালে নিহতের গলায় ও কানের এক পাশে লালচে দাগ পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
