ময়মনসিংহ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হলো ময়মনসিংহ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি। ময়মনসিংহ জেলা বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত। এটি বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা, যার ভৌগলিক অবস্থান ও ইতিহাস অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

 

ময়মনসিংহ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি

 

ময়মনসিংহ জেলা সম্পর্কে কিছু মৌলিক তথ্য

ময়মনসিংহ জেলা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য জেলাগুলির সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করে। ময়মনসিংহ জেলা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সাথে উত্তরে, গাজীপুর জেলা দক্ষিণে, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলা পূর্বে এবং শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলা পশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি একটি প্রশাসনিক একক হিসেবে ৩৩টি ওয়ার্ডের একটি সিটি কর্পোরেশন, ১৩টি উপজেলা, ১৪টি থানা, ১০টি পৌরসভা, ১৪৭টি ইউনিয়ন, ২১০১টি মৌজা, ২৭০৯টি গ্রাম ও ১১টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।

ময়মনসিংহ জেলা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক অঞ্চল। এখানকার প্রধান আবাদি ফসলের মধ্যে ধান, গম, সরিষা, মিষ্টি আলু এবং বিভিন্ন ফলের উৎপাদন ব্যাপক। এছাড়াও, এই অঞ্চলে শিল্প ও বাণিজ্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ময়মনসিংহের বিসিক শিল্প নগরী ও শিল্প অঞ্চলগুলি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

ময়মনসিংহ জেলার ভৌগলিক বিভাজন ও ইতিহাস

ময়মনসিংহ জেলা বাংলাদেশের অষ্টম প্রশাসনিক বিভাগ, যার মধ্যে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর এবং নেত্রকোণা জেলা অন্তর্ভুক্ত। ১৮২৯ সালে ঢাকা বিভাগ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ময়মনসিংহ বৃহত্তর ঢাকা বিভাগের অংশ ছিল। তবে ২০১৫ সালে ঢাকা বিভাগ ভেঙে ময়মনসিংহ একটি আলাদা বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ বিভাগের আয়তন ১০,৫৮৪ বর্গকিলোমিটার এবং এখানকার মোট জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৪৭। এই বিভাগের মধ্যে রয়েছে মোট ২৪টি সংসদীয় আসন, ৩৫টি উপজেলা, ৩৭টি থানা, ২৬টি পৌরসভা, ৩৫২টি ইউনিয়ন, এবং ৭ হাজার ৩০টি গ্রাম।

 

ময়মনসিংহ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি

 

ময়মনসিংহ জেলার ভূমি ব্যবহার ও কৃষি

ময়মনসিংহ জেলা অত্যন্ত সমতল ভূমির অধিকারী। এখানকার মাটি উর্বর এবং কৃষির জন্য উপযোগী। ময়মনসিংহের কৃষিতে ধান প্রধান ফসল, তবে অন্যান্য কৃষি ফসলও চাষ হয়। মাছ চাষ এবং শষ্য উৎপাদন এ অঞ্চলের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অঞ্চলের কৃষকরা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন এবং জৈব ফসলের উৎপাদনেও দক্ষতা অর্জন করেছেন। ময়মনসিংহ জেলা মাছ চাষের জন্যও খ্যাতি অর্জন করেছে।

ভৌগলিক পরিবর্তন ও ইতিহাস

ময়মনসিংহ জেলা বাংলাদেশের একটি প্রাচীন অঞ্চল, যার ভৌগলিক সীমানা একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৭০ সালে ময়মনসিংহ জেলা থেকে টাঙ্গাইল মহুকুমাকে পৃথক করে একটি নতুন জেলা গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে জামালপুর মহকুমাকে পৃথক জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয় এবং ১৯৮০-এর দশকে কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণাকে আলাদা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ব্রিটিশ আমলে ময়মনসিংহের কিছু অংশ সিলেট, ঢাকা, রংপুর ও পাবনা জেলার অংশ ছিল, যা পরবর্তীতে পুনর্গঠনের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

এভাবে, ময়মনসিংহ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি ও ইতিহাস বাংলাদেশের উন্নয়নশীল অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ময়মনসিংহ এখন শুধুমাত্র একটি জেলা নয়, বরং একটি উন্নত প্রশাসনিক বিভাগ, যেখানে কৃষি, শিল্প এবং অর্থনীতি একে অপরের সাথে সমন্বিত হয়ে প্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে।

১ thought on “ময়মনসিংহ জেলার ভৌগলিক পরিচিতি”

Leave a Comment