জামালপুরে বালু উত্তোলনকারীরা ভূমি কর্মকর্তাকে পেটালেন

বালু উত্তোলনকারীরা ভূমি কর্মকর্তাকে পেটালেন , জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক ভূমি কর্মকর্তাকে পিটিয়েছেন বালু উত্তোলনকারীরা। উপজেলার নিলাখিয়া ইউনিয়নের বিনোদরচর গ্রামে তিনি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে ওই ঘটনা ঘটে।

 

জামালপুরে বালু উত্তোলনকারীরা ভূমি কর্মকর্তাকে পেটালেন

 

জামালপুরে বালু উত্তোলনকারীরা ভূমি কর্মকর্তাকে পেটালেন

ওই ভূমি কর্মকর্তার নাম আবদুল গণি। তিনি নিলাখিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা। এ ঘটনায় তিনি রাত আটটার দিকে বকশীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই কর্মকর্তা।

খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতাউর রহমান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন বিনোদরচর গ্রামের হাসান মিয়া ও তাঁর বড় ভাই কারণ আলী এবং আবদুল কুদ্দুস। ঘটনার পর থেকে তাঁরা তিনজনই পলাতক।

স্থানীয় ও ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে একটি পুকুর থেকে ওই তিন ব্যক্তি অবৈধ খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলন করছিলেন। পাশের কয়েকটি বাড়ি এতে হুমকির মুখে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন এ বিষয়ে সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য আবেদন করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তিন দিন আগে নিলখিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবদুল গণি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন। আজ আবারও বালু উত্তোলন শুরু করা হয়।

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

খবর পেয়ে আজ বিকেলে ওই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান এবং বালু উত্তোলন বন্ধ করতে বলেন। এ সময় হাসান মিয়া ও তাঁর বড় ভাই কারণ আলী ওই কর্মকর্তাকে রড ও লাঠি দিয়ে পেটান। পরে ওই কর্মকর্তারা দৌড়ে একটি বাড়ির কক্ষে ওঠেন। সেখানে ওই চক্রের আরও সদস্যরা কক্ষের চারপাশে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতাউর রহমান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আবদুল গণি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারিভাবে খননযন্ত্র অবৈধ একটি যন্ত্র। সেটি দিয়ে বালু উত্তোলন করার সুযোগ নেই। আমি বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে প্রথমে হাসান আমাকে রড দিয়ে পেটাতে শুরু করেন। পরে তাঁর বড় ভাই কারণ আলীও লাঠি নিয়ে আমাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমি দৌড়ে একটি বাড়ির কক্ষে ঢুকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করি। সেখানেও তাঁরা লোকজন নিয়ে আমাকে আটকে রাখেন। পরে উপজেলা জেলা স্যার ও পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতাউর রহমান বলেন, খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলার কোনো সুযোগ নেই। ওই ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন। আর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা মারধরের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘ওই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

জামালপুরে বালু উত্তোলনকারীরা ভূমি কর্মকর্তাকে পেটালেন

Leave a Comment