ময়মনসিংহে কারও কাছে সহজ কারও কাছে জটিল , জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে নিবন্ধনের মাধ্যমে বুধবার থেকে ট্রেনের টিকিট কাটা শুরু হয়েছে। নতুন এ পদ্ধতি চালুর পর ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। নতুন পদ্ধতিটি কারও কাছে বেশ সহজ মনে হচ্ছে; আবার কারও জন্য পদ্ধতিটি খুব জটিল হয়ে পড়েছে।

ময়মনসিংহে কারও কাছে সহজ কারও কাছে জটিল ময়মনসিংহে
আজ বেলা ১১টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে অবস্থান করে দেখা যায়, আন্তনগর টিকিট কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা নিজেদের মুঠোফোনে ব্যস্ত। তাঁরা সবাই এনআইডির মাধ্যমে নিবন্ধন করছেন। এর মধ্যে অনেকেই টিকিট কাটার পদ্ধতি বুঝতে না পেরে অন্যের সহযোগিতা নিচ্ছেন। কেউ কেউ টিকিট কাউন্টারে গিয়ে সহযোগিতা চাইছেন।
সাইফুল আলম নামের এক যাত্রী ঢাকাগামী ট্রেনের টিকিটের জন্য সহজেই নিজের নাম নিবন্ধন করেছেন। তবে তাঁর পাশে দাঁড়ানো নুরে আলম বিষয়টি বুঝতে পারছিলেন না। পরে সাইফুল আলমের সহযোগিতা নিয়ে নূরে আলম নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।
রেলস্টেশন ঘুরে দেখা গেল, যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই নতুন এ নিয়ম চালুর বিষয়ে জানেন না। তাঁরা জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াই বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। গৌরীপুর উপজেলা থেকে আসা এক নারী যাত্রী কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারেন, এনআইডি ছাড়া টিকিট কাটা যাবে না। পরে তিনি স্টেশন থেকে বের হয়ে যান।

ইসমাইল হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, এনআইডি দিয়ে নিবন্ধন করে টিকিট কাটার বিষয়টি জটিল লাগছে। তবে কিছুদিনের মধ্যে সবাই এটায় অভ্যস্ত হয়ে যাবে। তখন সবার কাছেই সহজ হবে। আগে টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য ছিল। নতুন এ পদ্ধতিতে টিকিট কালোবাজারি হবে না বলে আশা করা যায়।
ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা নাঈম ইসলাম বলেন, আজ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়া ট্রেনের টিকিট কাটা যাবে না। এনআইডি দিয়ে ‘অনলাইন’ ও ‘অফলাইন’—এ দুই পদ্ধতিতে টিকিট কাটা যাচ্ছে। যাত্রীর নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর মুঠোফোন নম্বর পরীক্ষা করে ও নিবন্ধন যাচাই করে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। নতুন এ পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রির বিষয়ে একটি প্রকল্পের অধীন তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট নাজমুল হক খান বলেন, ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে কর্মরত চার কর্মীকে টিকিট কাটার ব্যাপারে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল থেকেই তাঁরা এ দায়িত্ব পালন করছেন। ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’—এমন ভাবনা থেকেই সরকার রেলের টিকিটে এনআইডি বাধ্যতামূলক করেছে। এতে টিকিট কালোবাজারিদের রোধ করা যাবে বলে আশা তাঁর।
