নান্দাইলে সহপাঠীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করল, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার একদল স্কুলছাত্রী একটি প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তাঁদের এক সহপাঠীর বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দিয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে দশম শ্রেণির সহপাঠীর বিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে তাঁর সহপাঠীরা গিয়ে বিয়েটি বন্ধ করে দেয়। তবে অভিভাবকেরা গোপনে কনেকে বরের হাতে তুলে দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না বলে জানায় তার সহপাঠীরা।

একদল স্কুলছাত্রী নান্দাইলে সহপাঠীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করল
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে ছাত্রীর বিয়ে হচ্ছিল সে নান্দাইল উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। একই উপজেলায় তাঁর বাড়ি। সূত্র জানায়, বিদেশগামী এক যুবকের সঙ্গে ওই ছাত্রীর বিয়ে ঠিক করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বরের বাড়ি থেকে লোকজন এসে আজ কনের হাতে আংটি পরায়। এ রকম অবস্থায় বিদ্যালয়ের ১৩ সহপাঠী প্রত্যন্ত গ্রামে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়।
ছাত্রীরা সেখানে গিয়ে কনের জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদর্শনের দাবি করে। কিন্তু বিয়েবাড়ির কেউ কিশোরী ছাত্রীদের কথা আমলে নিচ্ছিল না। পরে ছাত্রীরা কয়েকজন সাংবাদিকের মাধ্যমে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল মনসুরকে বাল্যবিবাহের ঘটনাটি অবহিত করে। পরে থানা থেকে পুলিশ কনের বাড়িতে গেলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশতাক আহমেদ বলেন, তিনি কনের বাড়িতে গিয়ে জন্মনিবন্ধন সনদ চেয়ে নেন। সনদ অনুযায়ী ছাত্রীর বিয়ের বয়স হয়নি। পরে তিনি বিষয়টি অভিভাবকদের বোঝান। একপর্যায়ে ছাত্রীর বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন অভিভাবকেরা।
ওই ছাত্রীর এক সহপাঠী বলে, ‘আমাদের দলের ১৩ জন সদস্য নিয়ে কনের বাড়িতে গিয়েছি। সবার সামনে বাল্যবিবাহের নানা কুফল নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু কেউ আমাদের কথা মানছিল না।’ আরেক সহপাঠী বলে, ‘গ্রামের মানুষ আমাদের কথা শুনতে তেমন উৎসাহ বোধ করেননি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, প্রশাসনের লোকজনকে দেখানোর জন্য কনের বাড়ির লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েটি বন্ধ করে। কিন্তু পরে গোপনে মেয়েকে বরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নান্দাইলের বিভিন্ন স্থানে এভাবে বাল্যবিবাহের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

