ব্রহ্মপুত্র নদের খনন কাজে অনিয়মের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী স্মরণসভা হয়েছে। ‘সুন্দর শূন্য কিলোমিটার’ নামের একটি সংগঠন ময়মনসিংহ নগরের কাচারিঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে প্রতিবাদী কর্মসূচিটির আয়োজন করে।
ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্রের ব্যতিক্রমী স্মরণসভা
গানে-সুরে ও সংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের খনন কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ জানান শিল্পিরা। দাবি জানান, মৃতপ্রায় ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার। চারদিকে যখন পানিতে টইটম্বুর তখন উল্টো চিত্র ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদে। বর্ষায় যৌবন ফিরে পাওয়ার কথা থাকলেও এক বুক দুঃখ নিয়ে বয়ে চলছে নদটি।

নদীর জীবন্ত সত্ত্বাকে টিকিয়ে রাখতে দখলে নয় বরং নদী টিকে লালনে, জলাশয় টিকে পরিচর্যায়। তাই নদীগুলোকে ফিরিয়ে দিতে, চাই তার পুরনো সীমানা। রাক্ষস খেলো আমাদের কলরব, আমাকে দাও স্রোতের জীবন’- এমন সব স্লোগানে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ নিয়ে নগরীর কাচারিঘাটে ব্রহ্মপুত্রের বালুচরে জড়ো হয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা।
প্রথমে কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া এবং জিলাপী বিতরণের মাধ্যমে শুরু হয় ব্রহ্মপুত্রের স্মরণসভা নামে ব্যতিক্রমী। এরপর মৃতপ্রায় নদকে স্মৃতিচারন করা হয় কথা, কবিতা-গানে গানে। এ সময় নদী খেকো নদী খননের নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য সহ নদীর গতিপথকে যারা বদলে দেয় তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন স্মরণসভায় যোগ দেয়া সকলে।
ময়মনসিংহবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে, হাতে নেওয়া হয়েছিল পাঁচ বছর মেয়াদি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্প। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ- ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের খননকাজ শুরু করে।

চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে। গাইবান্ধা, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ এই পাঁচ জেলায় নদের ২২৭ কিলোমিটার অংশের কোনো কোনো এলাকায় খনন শেষ, কোনো এলাকায় কাজ চলছে, আবাদ কোনো এলাকায় কাজ শুরু হয়নি।
আয়োজকরা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ খননের নামে লুটপাট, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ব্রহ্মপুত্রকে পানিশূন্য করা, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ ‘ব্রহ্মপুত্রের স্মরণসভা’ নামে এই আয়োজন করা হয়। সুন্দর শূন্য কিলোমিটার নামে সংগঠনের আয়োজনে এ স্মরণসভা চলে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

কবি ও সংগঠক শামীম আশরাফ বলেন, ‘আমরা ধরে নিয়েছি ব্রহ্মপুত্র মরেই গেছে। তাই স্মরণসভা করার জন্য আমরা এসেছি। কেন নদটিকে মেরে ফেলার বিরুদ্ধে সুরে সুরে, গানে গানে প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমরা দাবি জানাই, খননের নামে যারা লুটপাট করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং ব্রহ্মপুত্রকে পুরোনা সীমানা ফিরিয়ে দিতে হবে।’
গেল বছরের ৫ মে মৃতপ্রায় ব্রহ্মপুত্র নদের হাটুঁ পানিতে দাঁড়িয়ে ‘মৃতের চিৎকার’ লেখা ব্যানার টানিয়ে প্রতিবাদী গানের মাধ্যমে অতীত যৌবনা ব্রহ্মপুত্রের বিরহগাঁথা তুলে ধরেন এই তরুণ সংস্কৃতিকর্মীরা।
আরও দেখুনঃ