ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ – গাজীপুরে বিভিন্ন স্থানে বকেয়া বেতন ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছেই। সোমবার সকালে ১২ দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামে গার্মেন্টস শ্রমিকরা।
ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ
সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অবস্থিত গোল্ডেন রিফিট নামক একটি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি যাওয়া নিয়ে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে যাত্রী সাধারণ ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।

একাধিক প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সকালে ওই গার্মেন্টসের কর্মরত শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে হাজিরা বোনাস বৃদ্ধিসহ নানা দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে।
শ্রমিকরা ১২দফা দাবি জানিয়ে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেয়। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না নিলে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের হাজিরা বোনাস, টিফিন বিল, নাইট বিলসহ ৮টি দাবি মেনে নেয়। ১২টি দাবি থেকে ৮টি দাবি মেনে নিলেও বাকী চারটি দাবি মেনে নেয়ার দাবি জানিয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে।
এতে সকাল থেকেই মহাসড়কের ওই অংশের আশপাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় মহাসড়কে চলাচল কারী দুরপাল্লার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
অপরদিকে, সকাল ৯টার পর থেকে গাজীপুৃরের টঙ্গী হোসেন মাকের্ট এলাকায় সিজন্স ড্রেসেস লিঃ কারখানার শ্রমিকরা গত তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দু‘পাশে অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। দুপুর ১টার দিকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসলে শ্রমিকদের সাথে আলোচনায় বসে।
গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের বাঘের বাজার জোনের পরিদর্শক সুমন মিয়া জানান, সকাল থেকে মহাসড়কে শ্রমিকদের আন্দোলনে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে মাওনা পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা মহা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়।
অপরদিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় একটি খাদ্য উৎপাদন কারখানার শ্রমিকরা সোমবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও কারখানা ভাঙচুর করার চেষ্টার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করা হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের (জোন- ২ ) পরিদর্শক নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, কারখানা বন্ধ ঘোষণার পরও কিছু উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক কারখানার ভিতরে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছিল। এ অভিযোগে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ৬ জনকে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিনটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।